দেশভাগ: ৭৫ বছর কারণে হারিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি মুসলিম বোনের সঙ্গে ভারতীয় শিখ ভাইদের মিলন

মুসলিমরা হিন্দুস্তানে বা বর্তমান ইন্ডিয়াতে আসার পর এখানকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোকে এক বিশাল সম্রাজ্যের রুপ দেয়। এবং সারা হিন্দুস্তান বা ইন্ডিয়া জুড়ে রাস্তা ঘাট নির্মান করে। কিন্তু ১৯৪৭ সালের পর এই হিন্দুস্তানই কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ভেঙ্গে পরে এর যোগাযোগ ব্যাবস্থা। লক্ষ লক্ষ পরিবার দেশ ছাড়া হয় ধর্মের ভিত্তিতে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিচ্ছন্ন হয় তাদের আদি বাসস্থান ও পরিবার বা আত্নীয় স্বজন দের থেকে।

পাকিস্তানি নারী মুমতাজ ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগের সময়, যা দেশভাগ বলে পরিচিত, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, ৭৫ বছর পর তিনি তার ভারতীয় ভাইদের সাথে এই প্রথমবারের মতো মিলিত হয়েছেন।

উত্তাল ওই সময়ে মুমতাজ বিবি তার শিখ পরিবার থেকে ঘটনাক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, এবং জীবনের দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়ে এসে গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের একটি গুরদুয়ারাতে তার দুই ভাই গুরমুখ সিং ও বলদেভ সিং-এর সঙ্গে একত্রিত হন।

এই ঘটনায় উদ্বেলিত তার এক ভাই গুরমুখ সিং বলেন, “আমরা যে আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের বোনের সঙ্গে মিলিত হতে পেরেছি তাতে আমরা খুবই আনন্দিত।”

১৯৪৭ এর দেশভাগের ফলে ভারত ও পাকিস্তান – এই দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের বাইরে পৃথিবীর ইতিহাসে সে সময় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছিল।

এক হিসেবে বলা হয়, দেশভাগের সময় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ শরণার্থী হন।

এছাড়াও সেসময় সংঘটিত ধর্মীয় দাঙ্গায় নিহত হয় পাঁচ থেকে ১০ লাখ মানুষ।

যেভাবে আলাদা হয়েছিলেন

দেশভাগের ফলে তাদের পিতা পালা সিং পাকিস্তান থেকে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পাতিয়ালা জেলায় চলে যান। পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় তার স্ত্রীর মৃত্যুর পরেই তিনি ভারতে চলে যান।

“তিনি ধারণা করেছিলেন যে স্ত্রীর সঙ্গে হয়তো তার কন্যাকেও হত্যা করা হয়েছে। এর পরে তিনি তার শ্যালিকাকে বিয়ে করেন (সে সময় পাঞ্জাব পরিবারে এটাই ছিল সামাজিক রীতি),” বলেন বলদেভ সিং।

দুই ভাই-এর মধ্যে কনিষ্ঠ বলদেভ সিং।

কিন্তু মুমতাজ বিবি ঘটনাক্রমে পাকিস্তানের একটি মুসলিম পরিবারের হাতে চলে যান, ওই পরিবারটি তাকে দত্তক নেয় এবং তারাই তাকে পেলে-পিঠে বড় করেন।

দুই ভাই-এর জন্য তাদের বোন মুমতাজ বিবির সন্ধান পাওয়াও ছিল বেশ নাটকীয়।

Related Post